যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে আয়োজিত ব্ল্যাক হ্যাট এবং ডিফকন নিরাপত্তা সম্মেলনে নিরাপত্তা গবেষক ম্যাট বার্চ এটিএম এনক্রিপশন ও অথেন্টিকেশন সফটওয়্যারের নয়টি গুরুতর দুর্বলতা তুলে ধরেছেন। বার্চের এই গবেষণার ফলে এটিএমের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পে ব্যবহৃত সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ঝুঁকিও সামনে এসেছে, যা বৈশ্বিক সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইনের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
জার্মান সফটওয়্যার কোম্পানি ক্রিপ্টওয়্যারের তৈরি ক্রিপ্টোপ্রো সিকিউর ডিস্ক সফটওয়্যারে এই ত্রুটিগুলো পাওয়া গেছে। এই সফটওয়্যারটি এটিএম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংকিং, অটোমোটিভ, সরকারি সংস্থা, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ব্যবহৃত হয়। ত্রুটিগুলোর মাধ্যমে এনক্রিপ্টেড ডিভাইসে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সুযোগ ছিল বলে জানান গবেষক।
এই বিষয়ে ক্রিপ্টওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উয়ে সামে জানিয়েছেন, কোম্পানিটি গত নভেম্বরের শুরুতে এবং ডিসেম্বরের শুরুতে দুটি পর্যায়ে প্যাচ প্রকাশের মাধ্যমে নয়টি ত্রুটিই সমাধান করেছে। তিনি আরও বলেন, তাদের গ্রাহকদের কাছে ত্রুটি শনাক্তের আগেই নতুন সংস্করণ পৌঁছে দেওয়া হয়।
এটিএম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাইবোল্ড নিক্সডর্ফ জানিয়েছে, তাদের ভায়নামিক সিকিউরিটি সুইটে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোপ্রো সফটওয়্যারের মাত্র দুটি ত্রুটি প্রাসঙ্গিক ছিল। কোম্পানিটি ডিসেম্বরেই এর সমাধান করেছে এবং দাবি করেছে যে, একা ওই ত্রুটিগুলো ব্যবহার করে তাদের এটিএম হ্যাক করা সম্ভব ছিল না।
গবেষক ম্যাট বার্চের মতে, এটিএমের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই সাপ্লাই চেইন সমস্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। এআই প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন খুব সহজেই সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যা আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করছে। সফটওয়্যারের জটিলতার আড়ালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পুরোনো মডেল এখন আর কার্যকর নয় বলে সতর্ক করেছেন তিনি।