যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে অবস্থিত মিস্টার গ্রিন নামের একটি দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়া ভাইরাল পেপটাইড ইনজেকশনগুলো ল্যাব পরীক্ষায় ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রযুক্তি বিষয়ক সাময়িকী ওয়্যারড (WIRED) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাজার থেকে কেনা নমুনাগুলো পরীক্ষা করে সেগুলোতে দাবি করা কোনো উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এই পরীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনিয়ন্ত্রিত এই শিল্পে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য ব্যবহারে জনস্বাস্থ্যের বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরীক্ষা পদ্ধতি
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের বেডফোর্ড এভিনিউর ওই দোকান থেকে ৩৭৬ ডলার ২০ সেন্টের বিনিময়ে চারটি ভিন্ন ধরনের পেপটাইড কেনা হয়। এর মধ্যে ছিল লিবিডো বাড়াতে PT-141, পেশি পুনর্গঠনে BPC-157, কোষের মেরামতে NAD+ এবং ওজন কমানোর ওষুধ রেটাট্রুটাইড। কেনাকাটার পর পণ্যগুলো অস্টিনভিত্তিক স্টার্টআপ ফিনরিকের মাধ্যমে স্বতন্ত্র ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।
ফলাফল
পরীক্ষায় দেখা গেছে, নমুনাগুলোতে কোনো ভারী ধাতু বা ক্ষতিকর টক্সিন না থাকলেও, বোতলের গায়ে লেখা মূল কোনো উপাদানের অস্তিত্বই সেখানে নেই। ল্যাবের প্রধান নির্বাহী মার্কো ক্রাউস জানান, এগুলো সম্ভবত ভুয়া বা মানহীন পণ্য। এর আগে জেফ কলহুন নামে এক ব্যক্তি একই ধরনের পণ্য অন্য ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে একই ফল পেয়েছিলেন।
ঝুঁকি ও আইনি অবস্থা
বর্তমানে পেপটাইডের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এগুলোর অনেকই মানুষের শরীরের জন্য ব্যবহারের অনুমতিপ্রাপ্ত নয়। দোকানগুলো সাধারণত পণ্যগুলোর গায়ে ‘শুধুমাত্র গবেষণার জন্য’ লিখে আইনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের জন্য অনিরাপদ এবং মানহীন এসব পণ্য কালোবাজারের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, তারা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। তবে বর্তমান ঢিলেঢালা নিয়ন্ত্রণের কারণে সহজেই এই ধরনের পণ্য সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।