অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৬৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের মাধ্যমে মাত্র চার সপ্তাহেই তাদের জৈবিক বয়সের সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন, যা বার্ধক্যজনিত শারীরিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
জৈবিক বয়স বলতে একজন মানুষের শরীরের স্বাস্থ্য ও শারীরবৃত্তীয় অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত বয়সের হিসাবকে বোঝায়, যা তার প্রকৃত ক্যালেন্ডার বয়সের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে।
গবেষণাটি পরিচালিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ লাইফ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের ড. ক্যাটলিন অ্যান্ড্রুসের নেতৃত্বে। গবেষণার ফলাফল ‘এজিং সেল’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার পদ্ধতি
গবেষক দল ১০৪ জন অংশগ্রহণকারীকে চারটি ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের দলে ভাগ করেন। সবার খাবারেই প্রোটিনের পরিমাণ ছিল ১৪ শতাংশ। কিছু দলকে সর্বভুক (প্রাণিজ ও উদ্ভিদজাত প্রোটিনের মিশ্রণ) এবং কিছু দলকে আধা-নিরামিষ (৭০ শতাংশ প্রোটিন উদ্ভিদজাত) খাবার দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি চর্বি ও শর্করার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে তাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হয়।
ফলাফল
গবেষণায় দেখা গেছে, যে দলগুলো কম চর্বিযুক্ত এবং বেশি শর্করাযুক্ত খাবার খেয়েছে, তাদের জৈবিক বয়সের সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে সর্বভুক কিন্তু কম চর্বিযুক্ত ও উচ্চ শর্করা গ্রহণকারীদের মধ্যে জৈবিক বয়স কমার প্রমাণ সবচেয়ে জোরালো ছিল। অন্যদিকে, উচ্চ চর্বিযুক্ত সর্বভুক ডায়েট গ্রহণকারীদের মধ্যে জৈবিক বয়সের তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
গবেষকরা ২০টি ভিন্ন বায়োমার্কার বা শারীরিক পরিমাপক বিশ্লেষণ করে এই জৈবিক বয়সের স্কোর নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে কোলেস্টেরল, ইনসুলিন এবং সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিনের মাত্রা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সতর্কতা
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ফলাফলটি প্রাথমিক পর্যায়ের। দীর্ঘমেয়াদে এই খাদ্যাভ্যাস বার্ধক্যজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর কি না বা এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী কি না, তা জানতে আরও বড় পরিসরে গবেষণার প্রয়োজন। এই গবেষণাটি বয়সের প্রভাব কমানোর প্রাথমিক ইঙ্গিত দিলেও এটি চূড়ান্ত কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে এখনই বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।