সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সংস্থাটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থার বিরোধিতার মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের নতুন এই কোম্পানি গঠন করা হলে ইনফান্তিনো ব্যক্তিগতভাবে কতটা লাভবান হবেন। এই পরিকল্পনাটি বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক রূপ বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
ফিফার আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনো বছরে প্রায় ৬০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পান। এর মধ্যে মূল বেতন হিসেবে প্রায় ৩২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং কর্মদক্ষতাভিত্তিক বোনাস হিসেবে প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া তিনি অফিসিয়াল সফরকালে দৈনিক ভাতা, বিনা মূল্যের বাসস্থান, গাড়ি, বিমা এবং পেনশনের মতো বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন।
ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনা
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনার জন্য এফএফই নামের নতুন কোম্পানি গঠনে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৭ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ২০৩১ সালে দায়িত্ব ছাড়লে ইনফান্তিনো এই নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে যোগ দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাঁর বার্ষিক বেতন প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান আয়ের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। তবে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বেতন বা পদের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি।
পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বিতর্ক
নতুন এই পরিকল্পনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব রয়েছে। এতে মার্কিন বিনিয়োগ তহবিল থ্রাইভ ইটারনালসহ সংশ্লিষ্টদের নাম উঠে এসেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলাঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।