ফ্রান্সের প্যারিসে প্রক্রিয়াজাত খাবারে ব্যবহৃত সাধারণ প্রিজারভেটিভের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকির সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ইউরোপীয় হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ফ্রান্সের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চের (আইএনএসইআরএম) গবেষণা পরিচালক ড. মাথিল্ডে তুভিয়ের এবং পিএইচডি শিক্ষার্থী আনাইস হাসেনবোলার। প্রক্রিয়াজাত খাবারে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক রোধে এবং সতেজতা বজায় রাখতে এসব রাসায়নিক উপাদান যোগ করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষণার পটভূমি
ফ্রান্সের ১ লাখ ১২ হাজার ৩৯৫ জন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে ‘নিউট্রিনেট-সান্তে’ প্রকল্পের আওতায় এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষক দল টানা সাত থেকে আট বছর ধরে অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এই সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের রক্তচাপের মাত্রা এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও এনজিনার মতো হৃদরোগের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, ৯৯.৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নিয়মিত কোনো না কোনো প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন।
ঝুঁকির কারণ ও বিশ্লেষণ
গবেষণায় আটটি নির্দিষ্ট প্রিজারভেটিভ চিহ্নিত করা হয়েছে, যা উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম সরবেট (E202), পটাশিয়াম মেটাবিসালফাইট (E224), সোডিয়াম নাইট্রাইট (E250), অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (E300), সোডিয়াম অ্যাসকরবেট (E301), সোডিয়াম এরিথরবেট (E316), সাইট্রিক অ্যাসিড (E330) এবং রোজমেরি নির্যাস (E392)।
যাদের খাবারে প্রিজারভেটিভের পরিমাণ বেশি ছিল, তাদের মধ্যে অন্যদের তুলনায় উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ২৯ শতাংশ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি ১৬ শতাংশ বেশি দেখা গেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করতে পারে বা অগ্ন্যাশয়ের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা পরোক্ষভাবে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গবেষক ড. তুভিয়ের জানিয়েছেন, যদিও এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা, তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইউরোপীয় ফুড সেফটি অথরিটি (ইএফএসএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ-এর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উচিত এসব খাদ্যের উপাদানের ঝুঁকি ও সুফল পুনরায় মূল্যায়ন করা। আপাতত জনস্বার্থ রক্ষায় প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার এবং প্রাকৃতিক খাবারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।