জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টোকিওতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৮ দশমিক ৮৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৫৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাজেট প্রস্তাব করেছে। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং নতুন ধরনের অস্ত্র সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই রেকর্ড পরিমাণ অর্থের আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন নর্থরপ গ্রুম্যান কোম্পানির এজিএম-৮৮জি (AARGM-ER) সিরিজের উন্নত অ্যান্টি-রেডিয়েশন গাইডেড মিসাইল সংগ্রহ করা। জাপানের ইতিহাসে এই প্রথম তারা সুনির্দিষ্টভাবে রাডার ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আগ্রহ প্রকাশ করল।
বাজেট প্রস্তাবের কিছু বিশেষ দিক
আগামী এপ্রিলে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরের এই খসড়ায় স্ট্যান্ড-অফ মিসাইল, ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্র চূড়ান্ত না হওয়ায় অনেক অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও দাম এ তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।
এর পাশাপাশি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য গাইডেড মিসাইল কর্মসূচি এবং চালকবিহীন ডুবোযানে ব্যবহারের জন্য স্ট্যান্ড-অফ মিসাইল লঞ্চ মডিউল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া এএসএম-৩ সুপারসনিক এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
ড্রোন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার
জাপানের মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের জন্য আরও ১৭টি এমকিউ-৯বি সি-গার্ডিয়ান ড্রোন কেনার আবেদন করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইয়েন। সেই সঙ্গে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন কেনার জন্য ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইয়েন বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
যুদ্ধের ময়দানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করছে জাপান। এ ব্যবস্থায় তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত এই বাজেট এখন অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।