যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সহায়তা পাওয়ার আবেদন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং জটিল সব নথিপত্র জমার যে ভোগান্তির শিকার হতে হয়, তাকে ‘টাইম ট্যাক্স’ বা সময়ের কর হিসেবে অভিহিত করেছেন সাংবাদিক অ্যানি লোরে। দ্য আটলান্টিক-এর এই সাংবাদিকের মতে, বিশেষ করে বেকারত্ব ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও খাদ্য সহায়তার মতো সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই বোঝা সবচেয়ে বেশি।
অ্যানি লোরে তার নতুন বই ‘দ্য টাইম ট্যাক্স: হাউ দ্য গভর্নমেন্ট ওয়েস্টস আওয়ার টাইম—অ্যান্ড হাউ টু ফিক্স ইট’-এ দাবি করেছেন, সরকারি সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সাধারণ মানুষের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, নতুন নতুন নিয়ম ও নথিপত্রের কড়াকড়ির কারণে ইতিমধ্যে লাখ লাখ আমেরিকান খাদ্য সহায়তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
বেকারত্ব ভাতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এটি একটি কন্ট্রিবিউটরি সুবিধা, যার জন্য মানুষ আগে থেকেই অর্থ প্রদান করে থাকেন। কিন্তু জটিল প্রক্রিয়া বা প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে অনেক যোগ্য ব্যক্তি এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, সরকার যখন নাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করে, তখন জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক অবিশ্বাসের জন্ম দেয়।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোর প্রক্রিয়া সহজ করার পরিবর্তে কেন কঠিন করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লোরে। তিনি বলেন, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এমন হওয়া উচিত নয় যে সেখানে আবেদন করতে কেবল স্মার্টফোন বা ওয়াইফাই সংযোগ থাকলেই চলবে। এর পরিবর্তে তিনি সরকারি নিয়মগুলো সহজীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
ভোটাধিকারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জটিলতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন নির্ধারণের মতো প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভোটারদের অংশগ্রহণ কমে যায়, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। তবে সোস্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিকদের ওপর এই ‘টাইম ট্যাক্স’-এর বোঝা কমিয়ে আনতে পারে।