বাংলাদেশের ঢাকায় বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত লেনদেনের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুসংগঠিত করতে নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধানকে একীভূত করে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা আগামী এক বছর কার্যকর থাকবে। গত বছর একই বিষয়ে দেওয়া নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এবার নতুন সার্কুলার জারি করে আগের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো বাতিল করা হয়েছে।
সার্কুলারটির গঠন
নতুন সার্কুলারটি তিনটি পৃথক অংশে সাজানো হয়েছে। প্রথম অংশে বাণিজ্যিক ঋণ, বিদেশি গ্যারান্টি বা জামানতের বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণ এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিবিধান তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয় অংশে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণ এবং ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্যারান্টি দেওয়ার বিস্তারিত নিয়মকানুন উল্লেখ রয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি মালিকানাধীন বা বিদেশি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে গত ১৫ জুলাই বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা আগের মতোই বহাল থাকবে।
নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা
নতুন নির্দেশনায় বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টি কিংবা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিটের (এসবিএলসি) বিপরীতে দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়ন নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা এসবিএলসি দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভিন্ন বিধান একটি সার্কুলারের আওতায় আসায় বৈদেশিক লেনদেনের জটিলতা কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।