পিরোজপুরের পিরোজপুর সদর কাঁচাবাজারে টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকা বেড়ে এখন ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের এমন লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বাজারে বেগুন, কাঁকরোল ও করলাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির পাশাপাশি মাছ ও ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
মাছের বাজারে ইলিশসহ সব ধরনের মাছের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বড় ইলিশ কেজিপ্রতি ২২০০ থেকে ৩০০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুই মাছের দামও পূর্বের তুলনায় বেড়েছে। ডিমের বাজারে প্রতি হালি লাল ডিম ৫০ টাকা, সাদা ডিম ৪৮ টাকা এবং দেশি মুরগি বা হাঁসের ডিম ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিবৃষ্টি ও বন্যার সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, সাগরে অনিয়ন্ত্রিত ট্রলিং এবং নদ-নদীতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহারের ফলে মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, যা সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি করছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত জানান, নদ-নদীতে ডুবোচরের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় বাজারে ইলিশ কম পাওয়ার কারণ হলো, জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছের বড় একটি অংশ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে চলে যায়। অবৈধ জাল নির্মূলে জেলা মৎস্য অফিস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলে তিনি জানান।