যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় গোপন প্রজনন কর্মসূচির সফলতায় ওরাংওটাংয়ের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফোর্ট ওয়েইন চিড়িয়াখানার প্রবীণ প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও ওরাংওটাং প্রজাতি সারভাইভাল প্ল্যান (এসএসপি) কোঅর্ডিনেটর অ্যাঞ্জি সেলজার জানান, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আটটি ওরাংওটাং শাবকের জন্ম হয়েছে। বিপন্ন এই প্রজাতির জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অর্জন।
প্রজনন পরিকল্পনা ও কৌশল
এসএসপি ১৯৮৫ সাল থেকে চিড়িয়াখানাগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রজনন সুপারিশ প্রদান করে আসছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ জুস অ্যান্ড অ্যাকোয়ারিয়ামস (এজেডএ) স্বীকৃত চিড়িয়াখানাগুলোতে প্রতিটি প্রাণীর বংশলতিকা বা ‘স্টুডবুক’ অনুসরণ করে এই পরিকল্পনা করা হয়। জিনতত্ত্ববিদরা প্রজনন জোড়া নির্বাচনের সময় জিনগত বৈচিত্র্য, প্রাণীর ব্যক্তিত্ব এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
মানুষের সাথে মিল
মানুষের সঙ্গে ওরাংওটাংয়ের ডিএনএ-র ৯০ শতাংশেরও বেশি মিল রয়েছে। প্রজনন কর্মসূচির আওতায় ওরাংওটাংদের মানুষের মতোই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও প্রসবপূর্ব ভিটামিন দেওয়া হয়। এমনকি তাদের গর্ভাবস্থার পরীক্ষা ও প্রসবকালীন জটিলতায় মানুষের মতোই অবস্টেরিশিয়ান বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়।
মায়ের ভূমিকা ও প্রশিক্ষণ
চিড়িয়াখানাগুলোতে শাবকদের জন্মের পর তাদের লালন-পালনের জন্য মায়েদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ডেনভার চিড়িয়াখানার ম্যাথিউ লেনিয়ো জানান, অনেক ক্ষেত্রে মা ওরাংওটাংদের শাবক পরিচর্যা শেখাতে হয় যাতে তারা যথাযথভাবে স্তন্যপান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। প্রয়োজনে ফস্টার বা বিকল্প মায়ের মাধ্যমেও শাবকদের বড় করা হয়।
সংরক্ষণের গুরুত্ব
বর্তমানে বন্য পরিবেশে বোর্নিয়ান ও সুমাত্রান ওরাংওটাংয়ের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। পাম অয়েল বাগানের জন্য বনাঞ্চল ধ্বংস এবং চোরাচালানের ফলে এই প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া এই শাবকদের বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে না, তবে এদের মাধ্যমে ওরাংওটাংয়ের জীবনধারা ও রোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হচ্ছে। এই তথ্যগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উদ্ধারকৃত ও বন্য পরিবেশে থাকা ওরাংওটাংদের জীবন বাঁচাতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।