যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বনেটহেড হাঙরের মাথার অদ্ভুত আকৃতি নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ মায়ামি রোজেনস্টিল স্কুল অফ মেরিন, অ্যাটমোস্ফেয়ারিক অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সের গবেষকরা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত পুরুষ ও স্ত্রী বনেটহেড হাঙরের মাথার গড়ন কেন ভিন্ন হয়, তা নিয়েই নতুন এই রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
আগের তত্ত্ব ও নতুন বাস্তবতা
এতদিন ধারণা করা হতো যে, পুরুষ বনেটহেড হাঙর যৌন পরিপক্কতা অর্জনের সময় তাদের মাথার সামনের অংশটি সুতীক্ষ্ণ করে তোলে। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ ও নারী উভয় প্রজাতির হাঙরের মাথা কম বয়সে সুতীক্ষ্ণ থাকে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে তা গোলাকার হতে থাকে। এই পরিবর্তনের হার নারী হাঙরের ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্পষ্ট।
গবেষণার পদ্ধতি
ফ্লোরিডার বিস্কেইন বে এবং টাম্পা বে এলাকার বনেটহেড হাঙরের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। ২০২২ সালের মে থেকে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত মোট ১৪৪টি হাঙরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষকরা হাঙরগুলোর মাথার আকৃতি ও তাদের খাদ্যভ্যাসের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছেন। ছবির মাধ্যমে হাঙরের মাথার বক্রতা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা হয়েছে এবং আইসোটোপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের খাদ্যশৃঙ্খলের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
খাদ্যভ্যাসের প্রভাব নেই
গবেষণায় দেখা গেছে, হাঙরের মাথার আকৃতি পরিবর্তনের পেছনে খাদ্যভ্যাস বা শিকারের পদ্ধতির কোনো ভূমিকা নেই। একই এলাকায় বাস করা পুরুষ ও নারী হাঙর একই ধরনের উৎস থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। ফলে মাথার গড়নের ভিন্নতার পেছনে অন্য কোনো বিবর্তনীয় কারণ রয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
কেন বনেটহেড হাঙরের মাথা সুতীক্ষ্ণ হয়, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ছোট ও কম বয়সী হাঙরের জন্য এই আকৃতি সাঁতারের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ভবিষ্যতে হাঙরের ভ্রূণ বিকাশ এবং সাঁতারের সক্ষমতা নিয়ে আরও গবেষণার মাধ্যমে এই রহস্যের সমাধান পাওয়ার আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই গবেষণার ফলাফল ‘ইন্টিগ্রেটিভ অর্গানিজমাল বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।