যুক্তরাষ্ট্রের পুয়ের্তো রিকোতে দেখা দিয়েছে তীব্র ও দ্রুত বর্ধনশীল খরা, যা বর্তমানে অঞ্চলটির ৪৪ শতাংশ এলাকাকে গ্রাস করেছে। নাসার আর্থ অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে শুষ্ক আবহাওয়া অঞ্চলটিতে মানবিক ও কৃষি সংকট তৈরি করেছে। নাসার গবেষক ডেভিড মকো জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট ও মাটি থেকে পাওয়া উপাত্তে চরম এই শুষ্ক পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাধারণত মে মাস থেকে পুয়ের্তো রিকোতে বৃষ্টির মৌসুম শুরু হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগস্টের শেষ নাগাদ অঞ্চলটির অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টিপাত ছিল অপ্রতুল। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে নদীগুলোর পানির স্তর রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এর প্রভাবে অনেক এলাকায় পানি সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে।
খরার প্রকোপ সরাসরি প্রভাব ফেলছে কৃষি খাতে। ফলদ বাগানসহ কলা ও কফির মতো ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং খামারিরা গবাদি পশুর জন্য প্রয়োজনীয় খড়ের সংকটে পড়েছেন। ক্রমবর্ধমান এই সংকটের মুখে পুয়ের্তো রিকোর গভর্নর জুলাই মাসের শেষের দিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এরপর আগস্টের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দুই ডজনেরও বেশি শহর ও এলাকায় খরার কারণে দুর্যোগ ঘোষণা করে।
পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা স্পষ্ট হয় গত তিন মাসের পরিসংখ্যানে। মাত্র তিন মাস আগেও অঞ্চলটির কোথাও খরার অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৬০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় এই হার ২০ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে।
ইউএস ড্রাউট মনিটরের ম্যাপ ব্যবহার করে এখন ফেডারেল এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্যোগ মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। দ্রুততম সময়ে সরকারি সহায়তা ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে দিতে এই মানচিত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।