বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়া নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে। গত ১ জুলাই এটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তারা নতুন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন।
পটভূমি
২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়। এরপর ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন কোনো কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম জাতীয় পে কমিশন বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর নতুন সরকার বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল একটি আলাদা কমিটি গঠন করে।
আইএমএফের পর্যবেক্ষণ ও সরকারের অবস্থান
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় এই পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। তবে সরকার আইএমএফের এই পরামর্শ গ্রহণ না করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নীতিগত সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে ভাবছে সরকার। অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই বিষয়টি চূড়ান্ত করা।
প্রভাব
নতুন এই পে-স্কেলের আওতায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী সুবিধা পাবেন। মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতাসহ সরকারের অন্যান্য খাতেও ব্যয় বাড়বে। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, পে-স্কেলের সঙ্গে আইএমএফের ঋণের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।