যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের আইক্লাউড প্রাইভেট রিলে (iCloud Private Relay) ফিচারে একটি বড় নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়েছে, যার ফলে ব্যবহারকারীর আইপি অ্যাড্রেস ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। সফটওয়্যার কোম্পানি মিকের (Mysk) নিরাপত্তা গবেষক তালাল হাক বাকরি এবং টমি মিক এই তথ্য জানিয়েছেন, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অ্যাপলের দাবি ছিল এই ফিচারটি বিজ্ঞাপনদাতা, সরকার বা সাইবার আক্রমণকারীদের কাছ থেকে ব্যবহারকারীর ওয়েব ট্রাফিক গোপন রাখবে।
গবেষকদের দাবি, অ্যাপলের আইক্লাউড প্লাস গ্রাহকদের জন্য তৈরি এই সুরক্ষা ব্যবস্থাটি আদতে ততটা কার্যকর নয়। আইক্লাউড প্রাইভেট রিলে চালু থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারকারীর ডিভাইস বা হোম নেটওয়ার্কের আইপি অ্যাড্রেস প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে, যা দিয়ে একজন ব্যক্তির অবস্থান বা পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। এই ত্রুটি সম্পর্কে অ্যাপলকে আগে অবগত না করে গবেষকরা সরাসরি তা জনসমক্ষে নিয়ে এসেছেন। এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, অতীতে অ্যাপলকে কোনো ত্রুটির কথা জানালে তারা দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করে এবং অনেক সময় সমস্যার প্রভাব অস্বীকার করে, যা গবেষকদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
মূলত পাসকি (Passkey) প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণেই এই সমস্যাটি হচ্ছে। যখন কোনো সাইটে পাসকি দিয়ে লগইন করা হয়, তখন ওয়েবকিট ফ্রেমওয়ার্ক প্রাইভেট রিলের প্রক্সি পাথ এড়িয়ে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদান করে। এতে ডেটা সার্ভার ডিভাইসের আসল আইপি অ্যাড্রেস দেখতে পায়।
পাসকি ছাড়াও আরও দুটি উপায়ে আইপি অ্যাড্রেস ফাঁস হচ্ছে। এর একটি হলো ডিএনএস প্রিফেচিং (DNS prefetching), যা রিলের আওতার বাইরে থেকে সরাসরি নেটওয়ার্কের তথ্য ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেয়। অন্যটি হলো ওয়েবট্রান্সপোর্ট (WebTransport) পদ্ধতি, যেখানে ওয়েবকিট সরাসরি সংযোগ তৈরি করে প্রাইভেট রিলেকে পাশ কাটিয়ে যায়।
এই বিষয়ে অ্যাপলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে অ্যাপলের আইক্লাউড ‘হাইড মাই ইমেইল’ ফিচারেও একই ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে ব্যবহারকারীদের প্রকৃত ইমেইল অ্যাড্রেস ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এবং বর্তমানে এ নিয়ে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।