যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা ইউনিভার্সিটি অ্যাট শার্লট পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাড়িতে একটিমাত্র সিসি ক্যামেরা বা নিরাপত্তামূলক ডিভাইস থাকলে চোরেরা সাধারণত সেই বাড়িকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিতে নিরুৎসাহিত হয়। অপরাধীদের আচরণের ওপর ভিত্তি করে করা এই গবেষণায় ৪০০ জনেরও বেশি চোরের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৮৩ শতাংশ চোর কোনো বাড়িতে প্রবেশের আগে সেখানে কোনো অ্যালার্ম সিস্টেম আছে কি না তা যাচাই করে। ৬০ শতাংশ চোর জানিয়েছে, তারা যদি আগে থেকেই বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ক্যামেরা দেখতে পায়, তবে তারা সেই বাড়িতে চুরি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ডোরবেল ক্যামেরা বা সিসি ক্যামেরাগুলোর দৃশ্যমান উপস্থিতি অপরাধ দমনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সিসি ক্যামেরার উপস্থিতিতে গাড়ি পার্কিং বা নির্দিষ্ট এলাকায় অপরাধের হার ৫১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। সত্তর ও নব্বইয়ের দশকের বিভিন্ন অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলোর ব্যবস্থা বা সাধারণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম থাকলেও চুরির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
বর্তমানে সিসি ক্যামেরার প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে। এখনকার ক্যামেরাগুলো মানুষের মুখ শনাক্তকরণ, দ্বিমুখী অডিও যোগাযোগ এবং দ্রুত মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানোর মতো সুবিধা দেয়। তবে নিরাপত্তাকে শতভাগ নিশ্চিত করতে ক্যামেরাগুলো এমনভাবে স্থাপন করা উচিত যাতে তা বাইরে থেকে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। চোরেরা অনেক সময় ওয়াই-ফাই জ্যামার বা নিজস্ব প্রযুক্তির সহায়তা নিলেও উচ্চমানের নিরাপত্তা ডিভাইসগুলো এখনো অপরাধ ঠেকাতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।