কম্বোডিয়ার নমপেনে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম। জাতিসংঘের এই ৯৫-৯৫-৯৫ লক্ষ্যমাত্রার অধীনে দেশটিতে এইচআইভি আক্রান্ত ৯৫ শতাংশ মানুষ তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন, ৯৫ শতাংশ মানুষ নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করছেন এবং ৯৫ শতাংশের শরীরে ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জাতিসংঘের এই লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী হিসেবে পরিচিত। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি দেশকে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বের ১১টি দেশ এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে, যার মধ্যে ইউরোপের একমাত্র দেশ ডেনমার্ক এবং বাকিগুলো আফ্রিকা অঞ্চলের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার অনেক দেশ এই লক্ষ্য অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য, যা মানুষকে পরীক্ষা বা চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকে যেতে বাধা দেয়। কম্বোডিয়া কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে তা অন্যান্য দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
কম্বোডিয়া সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। নব্বইয়ের দশকে তারা এইচআইভি প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করে। ২০০৩ সাল থেকে সরকার বিনামূল্যে এইচআইভি ওষুধ সরবরাহ শুরু করে, যা আন্তর্জাতিক তহবিলের সহায়তায় পরিচালিত হয়।
দেশটিতে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তারা বিশেষ করে যৌনকর্মী এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে তোলা হয়েছে কাউন্সেলিং ও সহায়তা নেটওয়ার্ক, যেখানে এইচআইভি আক্রান্তরা সরাসরি সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ যারা এই ভাইরাসের সঙ্গে বসবাস করছেন, তারা নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। কম্বোডিয়ার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক পরিকল্পনা ও সামাজিক সমন্বয়ের মাধ্যমে মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।