ইসরায়েলের ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের গবেষকরা এমন এক ধরনের কোষ শনাক্ত করেছেন, যা কোষের আত্মহনন প্রক্রিয়া থেকে বেঁচে ফিরে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু দ্রুত পুনর্গঠন করতে পারে। গবেষণার নেতৃত্বে থাকা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কোষগুলো মূলত টিস্যুর ক্ষতি মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে এটি ক্যানসার কোষের বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবেও কাজ করতে পারে। নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক বা অঙ্গের আবরণী টিস্যু পুনর্গঠনের সক্ষমতাকে বলা হয় ‘কম্পেনসেটরি প্রলিফারেশন’। সত্তরের দশকে ফলের মাছি নিয়ে গবেষণার সময় এই বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। বর্তমানে ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউটের দলটি ডার (DARE) নামক এক বিশেষ কোষের সন্ধান পেয়েছে, যা ‘ক্যাসপেস’ এনজাইমের সহায়তা নিয়ে কোষের মৃত্যু প্রক্রিয়া শুরুর পরও বেঁচে থাকে। এই বেঁচে থাকা কোষগুলো ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর প্রায় অর্ধেক পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়।
গবেষক দলের প্রধান ড. স্লি ব্রাউন জানান, তারা এমন কোষের সন্ধানে ছিলেন যারা আত্মহননের সংকেত পাওয়ার পরও টিকে থাকে। ডার কোষের পাশাপাশি তারা নারে (NARE) নামে আরও এক ধরনের কোষের সন্ধান পেয়েছেন, যা টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়তা করে। এই দুই ধরনের কোষের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ফিডব্যাক লুপ বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা কাজ করে, যা অতিরিক্ত কোষ বৃদ্ধি রোধ করে শরীরকে স্বাভাবিক রাখে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, একই কৌশল ব্যবহার করে ক্যানসার কোষগুলোও চিকিৎসার সময় ধ্বংস হওয়া থেকে বেঁচে যেতে পারে। ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিয়েশনের মাধ্যমে কোষকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, টিকে যাওয়া কোষগুলোর বংশধররা পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী ও প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে একদিকে যেমন দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে নতুন পদ্ধতি তৈরিতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে ক্যানসার কোষ কীভাবে চিকিৎসার পরেও টিকে থাকে তা বুঝতে গবেষকদের সাহায্য করবে।