ভারতের নয়াদিল্লিতে এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে তেওলদে গেব্রেমারিয়ামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সংস্থাটি বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান এবং গত বছরের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পরবর্তী সংকট মোকাবিলা করছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সাবেক প্রধান গেব্রেমারিয়াম ক্যাম্পবেল উইলসনের স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি গত এপ্রিলে পদত্যাগ করেন। এয়ার ইন্ডিয়ার এই নেতৃত্বের পরিবর্তন সংস্থাটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা এখন স্থিতিশীলতা ও সম্প্রসারণের নতুন পর্যায়ে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
পটভূমি
২০২২ সালে টাটা গ্রুপ ভারত সরকারের কাছ থেকে এয়ার ইন্ডিয়া কিনে নেওয়ার পর থেকেই সংস্থাটি বিভিন্ন ধরনের অপারেশনাল বা পরিচালনগত সমস্যার মুখে পড়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের বহরে ১৯৮টি উড়োজাহাজ রয়েছে এবং তারা ৯১টি গন্তব্যে সপ্তাহে প্রায় ৫ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে। গত জুনে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী একটি বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা সংস্থাটির উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী অক্টোবরে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আর্থিক ও পরিচালনগত চ্যালেঞ্জ
বেসরকারি মালিকানায় ফিরে আসার পর থেকে এয়ার ইন্ডিয়া আর্থিক সংকটে রয়েছে। গত মাসে সংস্থাটি রেকর্ড ২.৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড লোকসানের তথ্য প্রকাশ করেছে। এয়ার ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন সতর্ক করে বলেছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এক দশক সময় লেগে যেতে পারে। ইতিমধ্যে সংস্থাটি তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে এনেছে। এর বাইরেও দিল্লির একটি ফ্লাইট আট ঘণ্টা আকাশে ওড়ার পর কানাডার আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ফেরত আসার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
নতুন সিইও তেওলদে গেব্রেমারিয়াম ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সে দীর্ঘ এক দশক কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ায় যোগ দিচ্ছেন। সেখানে তিনি যাত্রীবাহী বিমানের সংখ্যা তিনগুণ বাড়িয়ে সেটিকে আফ্রিকার অন্যতম লাভজনক এয়ারলাইন্সে পরিণত করেছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মসংস্কৃতি পুনর্গঠন, কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং বিমান বহরের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত করাই হবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। গেব্রেমারিয়াম জানিয়েছেন, তিনি এয়ার ইন্ডিয়াকে বিশ্বমানের একটি এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তুলতে চান যা ভারতের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে প্রতিফলিত করবে।