যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় তারকাদের শারীরিক গঠন ও ওজন কমে যাওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্দেসহ বিভিন্ন নারী তারকার ওজন হ্রাস নিয়ে করা মন্তব্যগুলো ইটিং ডিজঅর্ডারে (খাদ্য গ্রহণজনিত রোগ) আক্রান্তদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়্যারড (WIRED)-এর সাথে আলাপকালে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জনমনে উদ্বেগ থাকলেও অনলাইনে এই ধরনের পোস্ট অনেক সময় অজ্ঞাতসারে ভুক্তভোগীদের জন্য প্ররোচনা হিসেবে কাজ করে।
সম্প্রতি আরিয়ানা গ্রান্দে তার নতুন মিউজিক ভিডিও ‘পেটাল’ প্রকাশের পর থেকে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। ভিডিওতে স্টুডিওর পুরুষ কর্মকর্তাদের তাকে ওজন কমানোর পরামর্শ দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। এরপর ভক্তদের পক্ষ থেকে তার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে গ্রান্দের টিম ঘোষণা দেয় যে, তার বর্তমান ট্যুর শেষ হওয়ার পর তিনি কিছুদিন জনসম্মুখ থেকে বিরতিতে যাবেন। এই ঘোষণাও নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেলিব্রিটিদের ‘বিফোর অ্যান্ড আফটার’ বা ওজন কমানোর আগের ও পরের ছবিগুলো শেয়ার করা ইটিং ডিজঅর্ডারে আক্রান্তদের জন্য ক্ষতিকর। ফ্যামিলি থেরাপিস্ট অ্যালিসন লোগু জানিয়েছেন, এই ধরনের ছবিগুলো অনেক সময় ‘প্রো-অ্যানোরেক্সিয়া’ বা ক্ষতিকর অনলাইন গ্রুপগুলোতে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে ভুক্তভোগীরা আরও বেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন এবং নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগেন।
ওয়্যারডকে লোগু আরও জানান, কেবল ওজন দেখেই কারো স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। ইটিং ডিজঅর্ডার যেকোনো শারীরিক গঠনের মানুষের হতে পারে। জনসাধারণের এই অতি-বিশ্লেষণ অনেক সময় মূল সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে ফেলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনলাইনে তারকাদের নিয়ে করা এই আলোচনায় স্বাস্থ্যসেবার কোনো তথ্য বা সহায়তার লিঙ্ক দেওয়া হয় না, বরং তাতে বিদ্রুপ ও কঠোর সমালোচনার সুর থাকে।
অ্যালসানা ইটিং ডিজঅর্ডার ট্রিটমেন্ট সেন্টারের প্রধান ক্লিনিক্যাল কর্মকর্তা কিশা আমেজকুয়া বলেন, ইটিং ডিজঅর্ডার অত্যন্ত জটিল ও বহুমুখী একটি সমস্যা। এটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো বা ভীতি প্রদর্শন করা কোনো কার্যকর সমাধান নয়। যারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, তাদের অধিকাংশেরই এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই এবং তারা অজান্তেই ক্ষতিকর চর্চায় লিপ্ত হচ্ছেন।