যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটি ও আটলান্টায় পরিচালিত এক গবেষণায় ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী অন্যতম ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ‘শিগেলা’র বিরুদ্ধে একটি নতুন ভ্যাকসিনের সফল প্রয়োগের কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। ওয়াল্টার রিড আর্মি ইনস্টিটিউট অব রিসার্চের তৈরি এই ভ্যাকসিনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডব্লিউআরএসএস২’ (WRSs2)। ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি ৮৯ শতাংশ কার্যকর।
গবেষণায় ১০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে অংশগ্রহণকারী হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। এর অর্ধেককে ভ্যাকসিনের ডোজ এবং বাকিদের লবনাক্ত পানির ডোজ দেওয়া হয়। দেখা গেছে, ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের হার অত্যন্ত সন্তোষজনক। ডা. রবার্ট ফ্রেনক এবং ডা. কাউসার তালাতের মতো বিশেষজ্ঞরা এই সাফল্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে দশ লক্ষাধিক মানুষ ডায়রিয়া ও আমাশয়জনিত রোগে মারা যায়, যার অর্ধেকই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। চাদের মতো দেশে শিশুদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। নোংরা পরিবেশ ও দূষিত পানির মাধ্যমে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় এবং জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভ্যাকসিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই গবেষণার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। গবেষকরা জানান, ভ্যাকসিনটি এখনও শিশুদের ওপর পরীক্ষা করা হয়নি। এছাড়া এটি কেবল শিগেলা সোনি নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। ডা. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখন পরবর্তী ধাপ হলো শিশুদের ওপর এর বড় ধরনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো। ভবিষ্যতে ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সম্মিলিত একটি ভ্যাকসিন তৈরির স্বপ্নও দেখছেন বিজ্ঞানীরা।