যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, তেহরান আর বেশিদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে না। ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, তারা কেবল ওমানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করছে। ইতিমধ্যে ইরান ও ওমান প্রণালিটির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের রুট নির্ধারণে একমত হয়েছে, যা বৃহত্তর শান্তির পথে সম্ভাব্য ভিত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে ইরানের সংসদীয় একটি কমিটি প্রণালিটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো ‘শত্রু’ দেশের জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার একটি বিল পর্যালোচনা করছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর আগে ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও জাহাজ চলাচলের রুট ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েই গেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ একে ‘থিয়েটার কূটনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও আলোচনার কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হলেও দুই দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও পারমাণবিক বিরোধ সহজে নিরসন হওয়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার দাবির বাস্তব ভিত্তি এবং এর দ্রুত সমাধান কতটা সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।