যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যের ইউটা ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে এক বছর আগে এক অনুষ্ঠান চলাকালীন আততায়ীর গুলিতে নিহত হন রক্ষণশীল কর্মী ও টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ (TPUSA)-এর প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্ক। তার মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতে সংগঠনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্কের স্থান কেউ পূরণ করতে না পারলেও তরুণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধ করার কাজ আগের চেয়ে জোরদার হয়েছে।
টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর চিফ অব স্টাফ মাইকেল ম্যাককয় বলেন, চার্লি কার্কের অভাব পূরণ হওয়ার নয়। তবে তার রেখে যাওয়া আদর্শ ও কাজের মডেলে সংগঠনটি তরুণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম আরও বাড়িয়েছে। তথ্যমতে, কার্কের মৃত্যুর আগে সংগঠনটির ৪১০টি কলেজ চ্যাপ্টার থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা ১,০৯৫-এ উন্নীত হয়েছে। এছাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পর্যায়ের ‘ক্লাব আমেরিকা’ চ্যাপ্টারের সংখ্যা ৪৫৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩,১০২-এ দাঁড়িয়েছে।
কার্কের সহকর্মীরা জানান, তিনি তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব তৈরির জন্য ব্যক্তিগতভাবে তাদের ওপর গুরুত্ব দিতেন। কার্ক কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সক্ষমতা তৈরিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। তাকে যারা কাছ থেকে দেখেছেন, তাদের মতে কার্ক কোনো ধরনের কৃত্রিমতা বা পপ কালচার অনুকরণ ছাড়াই নিজস্ব স্বকীয়তা ধরে রেখে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন।
কার্কের প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের হাত ধরেই আনা পলিনা লুনা এবং ক্যারোলিন লেভিটের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিরা জনসেবা ও রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। ইশাবেল ব্রাউনের মতো অনেকে জানিয়েছেন, কার্কই তাদের পেশাগত জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ম্যাককয়ের মতে, তরুণ প্রজন্মের কাছে কার্কের গ্রহণযোগ্যতার মূল কারণ ছিল তার স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা। তিনি তরুণদের যা শুনতে ইচ্ছে হতো তা না বলে, যা তাদের শোনা প্রয়োজন ছিল সেটিই বলতেন। কার্কের এই সাহসী ও স্পষ্টবাদী আদর্শই এখন হাজারো তরুণ কর্মীর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।