যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সএআই তাদের নতুন কোডিং এজেন্ট ‘গ্রক বিল্ড’ বাজারে নিয়ে এসেছে, যা ডেভেলপারদের কোডিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করবে বলে জানিয়েছেন এর নির্মাতা এলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি। এই টুলটি সরাসরি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্টে যুক্ত হয়ে কোড লেখা, বাগ সংশোধন এবং নতুন ফিচার যুক্ত করার কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে, যা বড় প্রজেক্টের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রক বিল্ড মূলত প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাগশিপ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ‘গ্রক ৪.৬’-এর ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সাধারণ চ্যাটবটের মতো বারবার কপি-পেস্ট না করে এটি সরাসরি ফাইল পড়তে এবং লিখতে সক্ষম, যা কোডিংয়ের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
ইনস্টলেশন ও ব্যবহার বিধি
গ্রক বিল্ড একটি টার্মিনাল-ভিত্তিক টুল। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা পাওয়ারশেল এবং ম্যাকওএস বা লিনাক্স ব্যবহারকারীরা টার্মিনাল উইন্ডো ব্যবহার করে এটি ইনস্টল করতে পারেন। উইন্ডোজের ক্ষেত্রে ‘irm https://x.ai/cli/install.ps1 | iex’ এবং ম্যাক/লিনাক্সের ক্ষেত্রে ‘curl -fsSL https://x.ai/cli/install.sh | bash’ কমান্ডটি ব্যবহার করতে হবে। ইনস্টলেশন শেষ হলে ‘cd’ কমান্ডের মাধ্যমে কোড এনভায়রনমেন্টে গিয়ে ‘grok’ কমান্ড দিলে এটি ব্যবহারের উপযোগী হবে। প্রথমবার ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীকে তার এক্স (X) অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগ-ইন করতে হবে।
ব্যবহার ও খরচ
টার্মিনাল উইন্ডোর ভেতর থেকেই গ্রক বিল্ড ব্যবহার করা যায়। এতে মাউস সাপোর্ট থাকায় মেনু নেভিগেশন সহজ হয়। এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ আইডিই (IDE) নয়, তাই কোড পরিবর্তনের জন্য ভিজ্যুয়াল স্টুডিও কোডের মতো টেক্সট এডিটর ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গ্রক বিল্ডের সুবিধা পাওয়ার জন্য পেইড সাবস্ক্রিপশন থাকা প্রয়োজন। ফ্রি ব্যবহারকারীদের টোকেন লিমিট খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। পেইড ‘সুপারগ্রক’ প্ল্যানের খরচ মাসে ৩০ ডলার থেকে শুরু করে ৩০০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় ধরনের পরিবর্তনের আগে এআই-এর ভুল এড়াতে গ্রক বিল্ডের ‘প্ল্যান মোড’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।