বাংলাদেশের ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই ছেলের দায়িত্বহীনতায় জরাজীর্ণ ঘরে একা বসবাস করা সালেহা বেগমের ঠাঁই হলো নিজের ছেলেদের বাড়িতে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের উপস্থিতিতে এই দুই ছেলে তাঁদের বৃদ্ধা মাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শেষ বয়সে পরিবারের সান্নিধ্য ফিরে পেলেন সালেহা বেগম।
পটভূমি
কালীগঞ্জ উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের বাসিন্দা ৭৮ বছর বয়সী সালেহা বেগম স্বামীর রেখে যাওয়া একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে একাকী দিন কাটাচ্ছিলেন। অথচ তাঁর দুই ছেলে আহাদ আলী ও অমেদ আলী পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাকা বাড়িতে সচ্ছল জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদের নজরে আসে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইউএনও আহাদ আলী ও অমেদ আলীকে কার্যালয়ে ডেকে জবাবদিহিতার আওতায় আনেন। ছেলেরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ইউএনও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে মায়ের ভরণপোষণ বা দেখভালে কোনো অবহেলা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০১৩ সালের পিতামাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী সন্তানদের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব পালনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ছেলেরা এখন পালাক্রমে মায়ের দেখাশোনা করবেন। বর্তমানে সালেহা বেগম তাঁর বড় ছেলে আহাদ আলীর বাড়িতে থাকছেন। নিজের পরিবারের সঙ্গে জীবনের বাকি সময়টুকু কাটানোর সুযোগ পেয়ে সালেহা বেগম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইউএনও নিয়মিত এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখার কথা জানিয়েছেন।