ডেনমার্কের একটি জাদুঘরের শেলফে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিশালাকার হাঙরের মেরুদণ্ডের হাড় খুঁজে পাওয়ার পর নতুন করে মেগালোডনের আকার নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ডেনমার্কের মিউজিয়াম অব সাউদার্ন জুটল্যান্ডে এই জীবাশ্মগুলো পাওয়া যায়, যা ১৯৮৯ সালের পর থেকে নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছিল। গবেষক দলের মতে, এই আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন এই শিকারি হাঙরটির দৈর্ঘ্য ২৪ মিটার বা ৭৯ ফুট ছাড়িয়ে যেতে পারত এবং এদের আয়ু হতে পারত প্রায় এক শতাব্দী।
গবেষণা অনুযায়ী, ১১ মিলিয়ন বছর পুরনো এই মেরুদণ্ডের হাড়গুলো অত্যন্ত বিরল, কারণ হাঙরের কঙ্কাল সাধারণত তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি হয়, যা সহজে জীবাশ্ম হিসেবে টিকে থাকে না। উদ্ধার হওয়া হাড়গুলোর ব্যাস প্রায় ২৩ সেন্টিমিটার বা ৯ ইঞ্চি, যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যেকোনো মেগালোডন বা ওটোডাস মেগালোডন প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বড়।
নতুন এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষকরা আরও ধারণা করছেন যে, জন্মের সময় একটি মেগালোডন বাচ্চার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩.৬ মিটার বা ১২ ফুট হতে পারে। এই নতুন তথ্যটি বিলুপ্ত এই প্রজাতিটির জীবনচক্র এবং প্রজনন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণাকে আরও স্পষ্ট করছে। এর আগে মনে করা হতো, ১৯৮৯ সালে জাদুঘর পরিবর্তনের সময় এই গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্মগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কোনো এক শেলফে এটি অবহেলায় পড়ে ছিল। এই আবিষ্কারের ফলে বিশালাকৃতির এই হাঙরের সঠিক আকার ও শারীরিক গঠন নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।