দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্সটিটিউট ফর বেসিক সায়েন্সের (IBS) বিজ্ঞানীরা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) চিকিৎসার একটি নতুন উপায় খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণা দলের প্রধান পরিচালক ইউঞ্জুন কিম জানান, মস্তিষ্কের একটি বিশেষ গ্লাইসিন ট্রান্সপোর্টার বা বাহক ‘Slc6a20a’ নিয়ন্ত্রণ করে এনএমডিএ (NMDA) রিসেপ্টরের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
এনএমডিএ রিসেপ্টর মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা, স্মৃতিশক্তি ও শেখার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অটিজম, সিজোফ্রেনিয়া এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতার মতো স্নায়বিক সমস্যায় এই রিসেপ্টরের কার্যকারিতা কমে যায়। পূর্ববর্তী গবেষণায় গ্লাইসিন বাড়িয়ে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা খুব একটা সফল হয়নি। তবে নতুন এই পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্টভাবে ‘Slc6a20a’ প্রোটিনকে লক্ষ্যবস্তু করায় অন্য স্নায়বিক ক্ষতির ঝুঁকি কম থাকে।
গবেষক দলটি অটিজমের ঝুঁকি বহনকারী SHANK2 ও SHANK3 মিউটেশনযুক্ত ইঁদুরের ওপর এই থেরাপি প্রয়োগ করে। এর ফলে ইঁদুরগুলোর সামাজিক যোগাযোগ, আচরণগত সমস্যা এবং মস্তিষ্কের সংকেত আদান-প্রদান ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, বয়স্ক ইঁদুরের ক্ষেত্রেও এই থেরাপি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে মস্তিষ্কের বিকাশের মূল পর্যায় পেরিয়ে যাওয়ার পরও অটিজমের চিকিৎসায় উন্নতি সম্ভব।
পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের কর্টিকাল অর্গানয়েডের ওপরও এই থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেখানেও এটি এনএমডিএ রিসেপ্টরের কার্যকারিতা প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এক ডোজ থেরাপি অন্তত আট সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যকর থাকে। এই আবিষ্কার অটিজমসহ অন্যান্য স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।