যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে এবারের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার লড়াইয়ে মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন স্থানীয় নারী ভোটাররা। এনপিআর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপাবলিকান প্রার্থী সুসান কলিন্স এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন উভয়ের জয়ের পথই নির্ভর করছে রাজ্যের প্রভাবশালী এই নারী ভোটারদের সমর্থনের ওপর।
বর্তমান সিনেটর রিপাবলিকান সুসান কলিন্স এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনের মধ্যকার এই লড়াইটি চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ডেমোক্র্যাট সাবেক স্টেট সিনেটর এমিলি কেইন জানান, মেইনের নির্বাচকমণ্ডলীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই নারী। এর মধ্যে বড় একটি অংশ ভোটার হিসেবে স্বতন্ত্র এবং তারাই যেকোনো রাজ্যব্যাপী নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নির্বাচনী প্রচারণার ইস্যু
প্রার্থীরা নারী ভোটারদের টানতে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করছেন। সুসান কলিন্স দীর্ঘকাল ধরে নিজেকে গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষে দাবি করলেও, ২০১৮ সালে ব্রেট ক্যাভানোকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগের পক্ষে তার ভোট সমালোচিত হয়েছে। অন্যদিকে ট্রয় জ্যাকসন অতীতে গর্ভপাতের অধিকারের বিপক্ষে থাকলেও বর্তমানে তিনি এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং এই ইস্যুতে নিজেকে কলিন্সের চেয়ে কার্যকর দাবি করছেন।
তবে অনেক নারী ভোটারের কাছে এসব ইস্যুর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটও বড় উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন খরচ এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো ভোটারদের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলছে।
প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
ট্রয় জ্যাকসনের প্রচারণায় কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে তার অতীতের কিছু আচরণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে। যদিও জ্যাকসন অভিযোগ করেছেন যে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে রিপাবলিকানরা প্রচারণায় লাখ লাখ ডলার খরচ করছে। অন্যদিকে সুসান কলিন্সের সামনেও রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জনমতের চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে মেইনের নারীরা কাকে বেছে নেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল।