দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে স্যামসাংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা ফোল্ডিং স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপলের আগমণকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্যামসাংয়ের অ্যাডভান্সড মেকানিক্যাল আর অ্যান্ড ডি গ্রুপের প্রধান হি-চুল মুন এবং স্মার্টফোন আর অ্যান্ড ডি গ্রুপের প্রধান সিউংকি চই এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। ফোল্ডিং ডিভাইসের বাজারে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা স্যামসাংয়ের ভাষ্যমতে, একটি ফোল্ডিং স্মার্টফোনের সাফল্য নির্ভর করে তার ওজনের ওপর।
স্যামসাংয়ের মতে, ডিভাইসটি যদি খুব বেশি ভারী বা স্থূলকায় হয়, তবে ব্যবহারকারীরা সেটি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না। গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর ওজন কমিয়ে আনার উদাহরণ দিয়ে তারা জানান, গত সাত বছরে তাদের প্রকৌশলীরা ডিভাইসের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে তাদের তৈরি পাসপোর্ট সাইজের ফোল্ডিং ফোনগুলো সাধারণ স্মার্টফোনের চেয়েও হালকা।
অ্যাপলের সম্ভাব্য ফোল্ডিং আইফোন নিয়ে মুন বলেন, এই বাজারে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে চাইলে ডিভাইসের ওজনের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এটি যে খুব সহজ কাজ নয়, তা-ও তিনি উল্লেখ করেন। ফোল্ডিং আইফোন বা আইফোন আল্ট্রা সম্ভাব্য ২৩১ থেকে ২৪১ গ্রাম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা স্যামসাংয়ের বর্তমান ফোল্ডিং ফোনগুলোর তুলনায় বেশি।
স্যামসাং জানিয়েছে, গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ তৈরির সময় তারা এর প্রায় ২৭০টি অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ ও ১৮০টি সহায়ক অংশ নিয়ে কাজ করেছে। সার্কিট বোর্ড থেকে শুরু করে ডিসপ্লে সাপোর্ট প্লেট পর্যন্ত প্রতিটি অংশ পুনর্গঠন ও পাতলা করে তারা ডিভাইসের ওজন কমাতে সফল হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে তারা বিশেষ ফ্লেক্স টাইটানিয়াম প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।
ফোল্ডিং ফোনের স্থায়িত্ব ও মেরামতযোগ্যতা নিয়ে অবশ্য প্রযুক্তি বিশ্বে বিতর্ক রয়ে গেছে। আইফিক্সিট-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ফোল্ডিং ফোনের হিঞ্জ ও ধূলিকণা প্রবেশ নিয়ে এখনো উদ্বেগের কথা জানায়। তবে স্যামসাং দাবি করেছে, তাদের বর্তমান মডেলগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই এবং মেরামত করা আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।