ইউক্রেনের কিয়েভে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের দেহাবশেষ উদ্ধারকারী ওলেক্সি ইউকভকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে একটি দেহ উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তিদের নাম পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার অসামান্য কাজের জন্য তাকে ‘আত্মার সংগ্রাহক’ বলা হতো।
ইউকভের বন্ধু সেরহি হ্নেজদিলভ জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট উদ্ধারকাজ চালানোর সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে ৪০ বছর বয়সী ইউকভের মৃত্যু হয়। এটি ইউক্রেনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কিয়েভের সেন্ট ভলোদিমির ক্যাথেড্রালে আয়োজিত শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে তার নিজ শহর স্লোভিয়ানস্কেও শোক পালন করা হয়।
যুদ্ধক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর পরিবারকে স্বস্তি দিতে ইউকভ ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। ২০২২ সালে এক বিস্ফোরণে তিনি একটি চোখ হারান এবং পায়ে গুরুতর আঘাত পান, তবে সুস্থ হওয়ার আগেই তিনি ফের উদ্ধারকাজে ফিরে আসেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দেহাবশেষ উদ্ধারের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ‘প্লাটজডার্ম’ (ব্রিজহেড) নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে তিনি এই কার্যক্রম শুরু করেন।
তিনি এবং তার স্বেচ্ছাসেবক দল প্রতিদিন ভোরে উদ্ধারকাজে বেরিয়ে পড়তেন। ড্রোনের মাধ্যমে এলাকা পর্যবেক্ষণ, মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার এবং বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় মাইন অপসারণের পর তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেহাবশেষ খুঁজতেন। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও ইউকভ কেবল ইউক্রেনীয় নয়, বরং রুশ সেনাসহ সংঘাতের শিকার সব পক্ষের মৃতদেহ উদ্ধারে কাজ করেছেন।
ইউকভ বিশ্বাস করতেন, যথাযথ সমাধি ছাড়া মৃতদেহ আত্মা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। তিনি বলেছিলেন, মৃতদেহ সমাহিত না হওয়া পর্যন্ত আত্মা মুক্তি পায় না এবং যতক্ষণ আত্মা ঘুরে বেড়াবে, যুদ্ধ শেষ হবে না। তার এই মানবিক কাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র আন্তর্জাতিক এমি পুরস্কার অর্জন করেছে।