চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে কে-পপের বিশ্বব্যাপী ঢেউ নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস-এর ওয়ার্ল্ড ট্যুরের অংশ হিসেবে সান্তিয়াগোতে আসার খবরে পুরো শহরে এখন এক বিশেষ উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে ল্যাটিন আমেরিকায় কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রসারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাল্লু বা কোরিয়ান ওয়েব নব্বইয়ের দশক থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে চিলির তরুণরা কেবল এই সংস্কৃতির অনুসারী নয়, বরং তারা একে নিজেদের মতো করে নতুন রূপ দিচ্ছে। কে-পপের জাঁকজমকপূর্ণ কোরিওগ্রাফি, উচ্চমানের ভিডিও নির্মাণ এবং রঙিন নান্দনিকতাকে তারা নিজস্ব সংস্কৃতির সাথে মিশিয়ে তৈরি করছে মৌলিক সব পরিবেশনা।
এমনই একটি উদাহরণ হলো ছয় সদস্যের ব্যান্ড কিউ-আর (Q_ARE)। ব্যান্ডটির সদস্য সেবা জানান, কে-পপ তাদের শিল্পের পথে আসার প্রেরণা জোগালেও তারা মূলত ল্যাটিন শিল্পী। তারা তাদের গানে ইংরেজি, স্প্যানিশ এবং চিলির স্থানীয় স্ল্যাংয়ের মিশেল ঘটান। এই ব্যান্ডের সদস্যরা নিজেরাই গান লেখা, কোরিওগ্রাফি এবং ভিডিও ডিজাইনের কাজ করেন। বর্তমানে তাদের ভক্তরা চিলি ছাড়িয়ে পেরু, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান পর্যন্ত বিস্তৃত।
এদিকে চিলিতে কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ব্যাপকভাবে বাড়ছে। সান্তিয়াগোর পাত্রোনাতো এলাকায় অর্ধশতাধিক কোরিয়ান রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি সান্তিয়াগোতে অবস্থিত রেই সেজং ইনস্টিটিউটে কোরীয় ভাষা শিখতে আগ্রহীদের সংখ্যা ২০১৯ সালের তুলনায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কিউ-আর ব্যান্ডের আরেক সদস্য ফাবি জানান, এশিয়ার শিল্প-সংস্কৃতি অনেক এগিয়ে থাকলেও তা চিলির শিল্পীদের জন্য নতুন কিছু তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে। তাদের দেখাদেখি চিলিতে এখন আরও নতুন নতুন বয় ব্যান্ড ও গার্ল ব্যান্ড গড়ে উঠছে, যা দেশটির সংগীত জগতে এক নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে।