বাংলাদেশের ঢাকায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম বিরোধী কোনো দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের আলোচনার মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে প্রার্থী করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরার পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিল, যিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন। এরপর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এবার জামায়াত এই ধারা ভেঙে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, দলের মনোনয়ন কাকে দেওয়া হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়ে বিরোধী দল হিসেবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টিকেই জামায়াত বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।