সুইডেনে বসবাসরত বাংলাদেশি লেখক ও গবেষক রহমান মৃধা তার সন্তানের টেনিস খেলোয়াড় হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতার আলোকে স্বপ্নের চেয়ে সংগ্রামের গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করেছেন। একজন ক্রীড়াবিদের জীবন বাইরে থেকে চাকচিক্যময় মনে হলেও, এর আড়ালে থাকে কঠোর পরিশ্রম, ইনজুরি এবং মানসিক লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাস।
সন্তানের টেনিস খেলার স্বপ্ন পূরণের পথে আসা বাধা এবং বাবার ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, টেনিস কোর্টে একজন ক্রীড়াবিদের প্রতিটি লড়াই তার নিজের। বাবা হিসেবে তিনি কেবল সন্তানের পাশে থেকে সাহস ও মানসিক সমর্থন জুগিয়েছেন। সন্তানের বারবার ইনজুরিতে পড়া এবং অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কঠিন সময়গুলোতেও হাল না ছাড়ার বিষয়টিই একজন ক্রীড়াবিদের প্রকৃত মানসিক শক্তির পরিচয় দেয় বলে তিনি মনে করেন।
রহমান মৃধার মতে, জীবনের কোনো বড় স্বপ্নই সহজ পথে অর্জিত হয় না। একটি উন্নত সমাজ গড়ার স্বপ্ন বা একজন তরুণের ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বপ্ন—সব ক্ষেত্রেই ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। সাফল্যকে শুধু ফলাফল দিয়ে বিচার না করে, সেই সংগ্রামের পথে একজন মানুষ কতটা মানবিক ও সাহসী হয়ে উঠল, তা-ই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি বড় স্বপ্নের জন্য সততা, অধ্যবসায় ও ধৈর্য অপরিহার্য। ব্যর্থতা মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং কতবার পড়ে গিয়ে আবার নতুন করে উঠে দাঁড়ানো হলো, সেটিই একজন মানুষের আসল পরিচয়। একজন অভিভাবকের সার্থকতা হলো সন্তানের স্বপ্নের পথে বাধা না হয়ে তার শক্তির উৎস হয়ে থাকা। দিনশেষে জীবনের লড়াইয়ে নিজের আলো জ্বালিয়ে অন্যকেও পথ দেখানোই সবচেয়ে বড় বিজয় বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।