ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সংরক্ষিত দুর্লভ ডোডো পাখির মাথার খুলি নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে গবেষণা চালিয়েছেন একদল বিজ্ঞানী। গবেষণায় দেখা গেছে, বিলুপ্ত এই পাখিটির ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল এবং এদের চঞ্চু বা ঠোঁট ছিল স্পর্শের প্রতি দারুণ সংবেদনশীল। ডেনমার্কের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সহযোগী অধ্যাপক পিটার অ্যান্ড্রু হসনারের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে, যা ডোডো সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা ভাঙতে সাহায্য করবে।
গবেষকদের মতে, ডোডো পাখি কেবল দিনের আলোতেই সক্রিয় ছিল না, বরং ভোর এবং সন্ধ্যার আবছায়া আলোতেও এদের বিচরণ ছিল। কবুতর ও ঘুঘুর সাথে জিনগত মিল থাকা সত্ত্বেও ডোডোর জীবনধারা ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। পাখির মাথার খুলির ভেতরে মস্তিষ্কের যে ছাপ পাওয়া গেছে, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা তাদের খাদ্য অন্বেষণ এবং পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে নতুন এই অন্তর্দৃষ্টি পেয়েছেন।
গবেষণার জন্য ডেনমার্ক এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির মিউজিয়ামে সংরক্ষিত বিশ্বের একমাত্র দুটি সম্পূর্ণ ডোডো পাখির খুলি ব্যবহার করা হয়েছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে কোনো ক্ষতি না করেই এই খুলিগুলোর ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত এই পাখিটির মস্তিষ্কের গঠন এবং ইন্দ্রিয়শক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে, যা আগে অসম্ভব ছিল।
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ডোডোকে অনেক সময় বোকা এবং অদক্ষ পাখি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে নতুন এই বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ করছে যে, ডোডো কেবল বিবর্তনের ধারায় আইসোলেটেড দ্বীপে গড়ে ওঠা এক অনন্য ও জটিল প্রাণী ছিল না, বরং তাদের স্নায়বিক গঠন বেশ উন্নত ছিল। এই গবেষণার ফলাফল জুওলজিক্যাল জার্নাল অব দ্য লিনিয়ান সোসাইটিতে প্রকাশিত হয়েছে।