ক্যামেরুনের ইয়াওন্দেতে বসবাসরত চিত্রশিল্পী মার্ক প্যাডু ইউরোপীয় রেনেসাঁ যুগের ধ্রুপদী চিত্রকর্মগুলোকে তার দেশের পরিচিত কোকো বাগানের প্রেক্ষাপটে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছেন। লন্ডনের লার্কিন ডুরে গ্যালারিতে এই শিল্পীর সাম্প্রতিক কাজের একটি প্রদর্শনী চলছে। প্যাডুর এই সৃষ্টিশীল প্রয়াস মূলত ধ্রুপদী পশ্চিমী শিল্পের সাথে আফ্রিকান জীবনের মেলবন্ধন, যা শিল্পজগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৩৬ বছর বয়সী এই শিল্পী ক্যামেরুনের বাফাং অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন, আফ্রিকার একজন শিল্পী হওয়া মানে হলো ইতিহাসের এক বিশাল উত্তরাধিকার বহন করা, যদিও মহাদেশটিতে শিল্পকলার অবকাঠামো এখনও বেশ সীমিত। তিনি রেনেসাঁর ধর্মীয় চিত্রকর্মের চরিত্রগুলোকে ইউরোপীয় আদলে না রেখে ক্যামেরুনের সাধারণ কৃষিভিত্তিক জীবনের মানুষের আদলে তুলে ধরতে পছন্দ করেন।
প্যাডুর মতে, রেনেসাঁ শিল্পের বিষয়বস্তু যেমন ভালোবাসা, ত্যাগ, ভয় এবং আশা—এগুলো কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা যুগের নয়, বরং সর্বজনীন মানবিক অভিজ্ঞতা। তিনি বিশ্বাস করেন, বাইবেলের দৃশ্যগুলো মূলত সাধারণ মানুষের জীবনকেন্দ্রিক ছিল, তাই সেগুলোকে ক্যামেরুনের কোকো বাগানের শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত যৌক্তিক।
তার শৈল্পিক যাত্রার শুরুটা হয়েছিল মায়ের অনুপ্রেরণায়। পরবর্তীতে তিনি ক্যামেরুনের প্রথম চারুকলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার চিত্রকর্মে পশ্চিমী রেনেসাঁর প্রভাবে আঁকা ‘দ্য ব্লু ভার্জিন’ বা ‘দ্য ব্লু ম্যান অব এনজম্বে’-এর মতো কাজগুলো বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি তার কাজের মাধ্যম হিসেবে সাধারণ মানুষ এবং ক্যামেরুনের দৈনন্দিন জীবনকে বেছে নিয়েছেন।
প্যাডু তার কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান, একটি ছবি আঁকার আগে তিনি মাসের পর মাস পরিকল্পনা করেন এবং পরিবার বা পরিচিতদের মডেল হিসেবে ব্যবহার করেন। তার উদ্দেশ্য কোনো কিছু নকল করা নয়, বরং বিশ্বকে ক্যামেরুনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা। লন্ডনের লার্কিন ডুরে গ্যালারিতে তার এই বিশেষ প্রদর্শনীটি ১৪ আগস্ট পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।