ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় কৌশলগত মখা বন্দর ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দখল করে নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুতি বিদ্রোহী ও ইয়েমেনের এক প্রতিদ্বন্দ্বী কমান্ডারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। এই ঘটনা দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছে।
তেলের বাজারের প্রভাব
এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ক্যাপিটাল ইকোনমিকস সতর্ক করেছে যে, আরব উপদ্বীপের দুই পাশে চলমান সংঘাত আগামী সপ্তাহগুলোতে জ্বালানির মূল্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৬১ শতাংশ বেড়েছে।
সৌদি আরবের সংকট
সামুদ্রিক বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে সৌদি আরব প্রতিদিন মাত্র ৩২ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে বাব আল-মান্দেব করিডোর এড়িয়ে অনেক দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর আগে পারস্য উপসাগরে মার্কিন-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরের দিকে পাইপলাইন ব্যবহার করেছিল। এখন সেই পথটিও হুতিদের হুমকির মুখে পড়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইন মারাত্মক চাপে পড়েছে।
মানবিক বিপর্যয়
হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও পাল্টা বিমান হামলা চালাচ্ছে। গত কয়েক দিনে মখা শহর ও এর আশপাশে তীব্র লড়াইয়ের ফলে অন্তত ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে। গৃহহীন পরিবারগুলো চরম খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে রয়েছে।
পটভূমি
প্রায় ১১ বছর আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে হুতিদের হটাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে এক দশকের বেশি সময় পার হলেও হুতিরা এখনও রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিকে ক্রমাগত অস্থিতিশীল করে তুলছে।