যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এইচ-১বিসহ নির্দিষ্ট কিছু অস্থায়ী কাজের ভিসাধারীদের চাকরি হারানোর পর দেশ ছাড়ার জন্য বর্তমানে প্রচলিত ৬০ দিনের অবকাশ সময় বা গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব করেছে। বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। দেশটির প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলো বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিয়ম পরিবর্তন বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের চাকরি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই দেশ ত্যাগ করতে হবে। ডিএইচএস তাদের প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে যে, এই পরিবর্তনের ফলে কোম্পানিগুলো কিছুটা বাধার মুখে পড়লেও, শূন্য পদে মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ বাড়বে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়োগকর্তারা আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পুনরায় আবেদনের সুযোগ পেতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বিদেশি কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়। প্রস্তাবিত এই নিয়ম এইচ-১বি ছাড়াও ই-১, ই-২, এল-১, ও-১, টিএন ভিসাধারী এবং সিঙ্গাপুর, চিলি ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ ভিসা পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
ইউসি ডেভিস স্কুল অফ ল-এর অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিন এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কর্মীদের কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই দেশ ছাড়তে বাধ্য করার যৌক্তিকতা নেই। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এফডব্লিউডি.ইউএস-এর প্রেসিডেন্ট টড শুল্টে বলেন, এই প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপ অভিবাসীদের পাশাপাশি তাদের ওপর নির্ভরশীল কোম্পানি ও সম্প্রদায়ের জীবনকে আরও জটিল করে তুলছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের ছাঁটাই ও অফবোর্ডিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।