যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের বিশাল তহবিল সংগ্রহ করেছে। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তির প্রসারে কম্পিউট বা হার্ডওয়্যারকে এখন নতুন একটি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এই অর্থ কোম্পানিটির নিজস্ব প্রজেক্ট ও অংশীদারদের প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্র
এনভিডিয়ার সাথে এই চুক্তিতে যুক্ত হয়েছে অ্যাপোলো, ব্ল্যাকরক, ব্ল্যাকস্টোন, ব্রুকফিল্ড, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং কেকেআর-এর মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এই বিশাল তহবিল মূলত এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং এআই চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনে ব্যয় করা হবে। জেনসেন হুয়াংয়ের মতে, এআই খাতে কম্পিউটিং শক্তিই আয়ের মূল উৎস, তাই এই অবকাঠামোকে টেকসই করার লক্ষ্যেই বিনিয়োগকারীদের সাথে এই জোট গঠন করা হয়েছে।
প্রযুক্তি জগতে প্রভাব
গুগল, মেটা, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং টেসলার মতো বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এআই চ্যাটবট ও প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার জন্য এনভিডিয়ার জিপিইউ চিপের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। গত তিন বছরে এ ধরনের কোম্পানিগুলো এআই প্রকল্পের পেছনে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। এনভিডিয়ার চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে গত তিন বছরে কোম্পানিটির বাজারমূল্য পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
কেকেআর-এর সহ-প্রধান নির্বাহী জো বে এবং স্কট নাটাল জানিয়েছেন, ডিজিটাল অবকাঠামোর পরিধি বাড়াতে গিয়ে তারা উপলব্ধি করেছেন যে এই খাতে উচ্চাভিলাষের চেয়ে সঠিক সময়ে সঠিক ডেলিভারি প্রদান করা বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবে রাথবোন্সের সিনিয়র ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার জেন সিডেনহ্যাম এই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হলেও তা ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত মুনাফা বয়ে আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বাজারের চাহিদা
বর্তমানে এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদার কারণে ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিং শক্তির সংকট তৈরি হয়েছে। অ্যাপোলোর প্রেসিডেন্ট জিম জেলটার এই পরিস্থিতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ শ্রেণি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম। ব্ল্যাকরক এবং অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রতি এআই অবকাঠামো উন্নয়নে পৃথক বড় বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা এ খাতের তীব্র প্রতিযোগিতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।