যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সের তুলেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লু কি-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের বেলা অতিরিক্ত আলোর সংস্পর্শ হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাতের আলোর সঙ্গে হৃদযন্ত্রের পরিবর্তনগুলোর সম্পর্ক উঠে এসেছে।
গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংক থেকে ১১ হাজার ৭১ জন অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা টানা সাতদিন কবজিতে আলোর সেন্সর ব্যবহার করেন, যা দিয়ে রাতের বেলা তাদের আলোর সংস্পর্শ পরিমাপ করা হয়েছে। তিন বছর পর তাদের হৃদযন্ত্রের এমআরআই স্ক্যান করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, যারা রাতে তিন লাক্সের বেশি আলোর সংস্পর্শে ছিলেন, তাদের হৃদযন্ত্রের বাম ভেন্ট্রিকলের দেয়াল পুরু হয়ে গেছে এবং হৃদযন্ত্রের অভ্যন্তরীণ স্থান সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া হৃদস্পন্দনের সময় হৃদপেশির নমনীয়তা কমে যাওয়ার লক্ষণও পাওয়া গেছে, যা হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতার প্রাথমিক সংকেত। গবেষকদের মতে, এটি হৃদযন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ বা আঘাতের প্রতিক্রিয়ার মতোই একটি পরিবর্তন, যা শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।
জার্মানির ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার মাইনজের অধ্যাপক থমাস মুনজেল ও তার সহকর্মীরা এই গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের পরামর্শ দিয়েছেন, রোগীদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ইতিহাস নেওয়ার সময় তাদের ঘুমের পরিবেশ সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা উচিত। তারা শোবার ঘর অন্ধকার রাখা, ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের এলইডি বাতি ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া শহরের আলোক দূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণকে হৃদরোগ প্রতিরোধের একটি সাশ্রয়ী কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।