যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ এবং সাউথ ক্যারোলাইনার প্রবীণ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে মার্কিন কংগ্রেস এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের পাশাপাশি তার শূন্য আসন পূরণের প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা-কল্পনা।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে মারা গেছেন, যা মার্কিন কংগ্রেস ও রিপাবলিকান শিবিরে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
- সাউথ ক্যারোলাইনার আইন অনুযায়ী, গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাউকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে পারেন।
- গ্রাহাম সম্প্রতি রিপাবলিকান প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়েছিলেন, ফলে তার আসনে নতুন প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এখন বিশেষ প্রাইমারি আয়োজনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
- সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শোক প্রকাশ করলেও, পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই রিপাবলিকান নেতার মৃত্যু মার্কিন সিনেটের শক্তিমত্তার সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। গ্রাহাম সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং চলতি বছরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। গত মাসেই তিনি প্রাইমারি নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন, ফলে তার মৃত্যুতে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সাউথ ক্যারোলাইনার আইন অনুসারে, বর্তমান গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার গ্রাহামের খালি হওয়া সিনেট আসনে একজনকে নিয়োগ দিতে পারবেন। তবে এই নিয়োগ হবে মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। রাজ্যের আইন অনুযায়ী, এই আসনটি পূরণের জন্য কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি বিশেষ প্রাইমারি নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আগামী জানুয়ারিতে যে প্রার্থী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হবেন, তিনিই পূর্ণ মেয়াদে অর্থাৎ ছয় বছরের জন্য সিনেটর হিসেবে শপথ নেবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দলের শীর্ষ নেতারা এখন তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি খোঁজার বিষয়ে আলোচনা করলেও, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তারা এখনই কোনো নাম প্রকাশ্যে আনতে ইচ্ছুক নন।
বিশ্লেষণ
লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু কেবল একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং মার্কিন সিনেটের রিপাবলিকান শিবিরে একটি বড় নেতৃত্বের সংকট তৈরি করেছে। গ্রাহাম একদিকে যেমন ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন, অন্যদিকে তিনি বিদেশি নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতেন। তার মৃত্যুতে সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটি বা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কমিটিতে রিপাবলিকানদের কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া, সাউথ ক্যারোলাইনার রাজনীতিতে এই শূন্যতা পূরণ করতে গিয়ে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা নতুন কোনো নেতৃত্বের উত্থান হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নির্বাচন সামনে রেখে এই বিশেষ পরিস্থিতি ভোটারদের মধ্যেও নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: theguardian.com