সোমবার প্যারিসে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইউক্রেনের মিত্রদেশগুলো কিয়েভকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাশিয়ার ওপর যুদ্ধের চাপ আরও বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে এই সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- প্যারিস সম্মেলনে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিত্রদেশগুলো।
- যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়ের জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীকে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
- রাশিয়ার ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও জোরালো করার বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করেছে।
- ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্যারিসে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলনে ইউক্রেনের মিত্রদেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধের শক্তি বাড়াতে নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিয়েভকে বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহের বিষয়টি এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল। সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউক্রেনকে কেবল বর্তমান যুদ্ধের জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্যও প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইউক্রেনীয় সেনাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পশ্চিমা শক্তিগুলোর এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা ইউক্রেনকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী সামরিক সমর্থনের মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
বিশ্লেষণ
প্যারিস সম্মেলনের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত বার্তা। এতদিন ইউক্রেন মূলত রক্ষণাত্মক লড়াই চালালেও, মিত্রদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিমান ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়া তাদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এটি একইসঙ্গে রাশিয়ার জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির পরের সময়ের জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষিত করার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, পশ্চিমা দেশগুলো এখন একটি স্থায়ী যুদ্ধ অবসানের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই সামরিক সহায়তা রাশিয়ার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকি তৈরি করে। মূলত, এই সহায়তা প্যাকেজের মাধ্যমে মিত্রদেশগুলো রাশিয়াকে বোঝাতে চাইছে যে, ইউক্রেনের অখণ্ডতা রক্ষায় তারা দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: rfi.fr