যুক্তরাষ্ট্রের হলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা হেনরি উইঙ্কলার জানিয়েছেন, অভিনয় ক্যারিয়ার শুরুর আগে তিনি অন্য একটি পেশা বেছে নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। ‘হ্যাপি ডেইজ’ এবং ‘ব্যারি’ খ্যাত এই তারকা জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা কম—এমন কোনো পেশা খুঁজছিলেন তিনি, যেখান থেকে শিশু মনোবিজ্ঞানী হওয়ার কথা তার মাথায় এসেছিল। সম্প্রতি ‘ইউ কুড মেক দিস বিউটিফুল’ পডকাস্টে ৮০ বছর বয়সী এই অভিনেতা তার জীবনের এই অজানা অধ্যায় তুলে ধরেন।
হেনরি উইঙ্কলার বলেন, শিশুদের বুঝতে পারা এবং তাদের কথা শোনার আগ্রহ থেকে তিনি এই পেশার প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন। শিশুদের জগত এবং তাদের চিন্তাভাবনাকে তিনি সবসময়ই কৌতূহলের চোখে দেখেন। ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে পড়াশোনার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার চেয়ে সরাসরি শিশুদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি তার কাছে সহজ মনে হয়েছিল।
অভিনয় জীবনে ডিসলেক্সিয়ার প্রভাব সম্পর্কে উইঙ্কলার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। চিত্রনাট্য পড়ার সময় পড়তে না পারার লজ্জা ঢাকতে একসময় তিনি হাস্যরসের আশ্রয় নিতেন। পরবর্তীতে অভিনয়ের প্রয়োজনে প্রতিটা শব্দ আলাদা করে পড়ে এবং আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে তিনি এই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠেন। ৩১ বছর বয়সে নিজের সৎ ছেলের মাধ্যমে তিনি প্রথমবার ডিসলেক্সিয়া সম্পর্কে জানতে পারেন।
হেনরি উইঙ্কলার জানান, জীবনের সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই তাকে আজ আরও বেশি ধৈর্যশীল এবং দৃঢ় মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। অভিনয় তার কাছে শুধু একটি পেশা নয়, বরং একটি গাছ রোপণের মতো—যেখানে তিনি নিরন্তর বেড়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন। ১৯৯৮ সালে ‘দ্য ওয়াটারবয়’ এবং পরবর্তীতে ‘ব্যারি’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৮ সালে ‘ব্যারি’ নাটকের জন্য তিনি প্রথমবার এমি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।