বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীমকে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করার জেরে হেনস্তা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, রোববার দুপুরে তাকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় জোরপূর্বক তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং কক্ষের দরজায় তালা লাগিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। ইব্রাহীমের ভাষ্যমতে, তাকে হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের পাশাপাশি সাইবার আইনে মামলার ভয় দেখিয়ে একটি লিখিত বক্তব্যে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুন অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থী তাঁর সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে চাইলে শিক্ষার্থী কথোপকথন রেকর্ড করছিলেন, যা নজরে আসায় তাকে ফোন জমা দিতে বলা হয়। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থী নিজেই ভুল স্বীকার করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন এবং পরে তাকে নাশতা খাইয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে হল কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছেন। এতে হল সংসদ, ডাকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারাও অংশ নিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করলেও প্রাধ্যক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। রাত ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।