যুক্তরাজ্যের কাউন্টি ডারহামের কনসেট শহরে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের নবজাতকের ফর্মুলা দুধের সাথে অতিরিক্ত পানি মিশিয়ে খাওয়াচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ‘মুরসাইড বেবি ব্যাংক’। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা মেগান সিনডেন জানান, খরচ কমাতে অভিভাবকরা ফর্মুলা পাউডারের পরিমাণ কমিয়ে দুধ পাতলা করছেন, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সিনডেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি কোনো বিলাসিতা নয় বরং শিশুদের মৌলিক চাহিদা। তাই শিশু খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ জরুরি।
জাতীয় শিশু জন্ম ট্রাস্ট (এনসিটি) জানিয়েছে, তাদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে প্রায় ৪৮ শতাংশ অভিভাবক সন্তান জন্মের পর আর্থিক সংকটে ভুগছেন। সংস্থার মতে, ফর্মুলা দুধ সবসময় উৎপাদনকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি করা উচিত। এতে অতিরিক্ত পানি মেশালে ফর্মুলার পুষ্টিমান নষ্ট হয়ে যায় এবং শিশুর শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণে অক্ষম হয়ে পড়ে। এতে ওজন কমে যাওয়া, শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টির প্রবল ঝুঁকি থাকে। এমনকি অতিরিক্ত পানি শিশুর শরীরের জন্য বিষক্রিয়ার মতো প্রভাবও ফেলতে পারে।
কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটির (সিএমএ) তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ইনফ্যান্ট ফর্মুলার গড় খুচরা মূল্য ২৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। উচ্চমূল্যের কারণে মুরসাইড বেবি ব্যাংকের মতো দাতব্য সংস্থাগুলোও ফর্মুলা দুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। মেগান সিনডেন জানান, অনেক অভিভাবক চরম হতাশায় ফর্মুলা দুধ চুরির মতো ঘটনার দিকেও ঝুঁকছেন।
এক ভুক্তভোগী মা জানান, সন্তানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে এবং সংকটময় মুহূর্তে বেবি ব্যাংকগুলোই তাদের বড় সহায়। এনসিটি অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছে, আর্থিক সমস্যায় পড়লে লজ্জাবোধ না করে স্বাস্থ্যকর্মী, মিডওয়াইফ বা স্থানীয় ফ্যামিলি হাবের মাধ্যমে সহায়তা নিতে। পাশাপাশি সবচেয়ে কম মূল্যের ফর্মুলা কিনলেও তাতে শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে তারা আশ্বস্ত করেছে।