যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে অবস্থিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. অ্যাবি চেং জানিয়েছেন, হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়া অনিবার্য কোনো ঘটনা নয় এবং সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। হাঁটুর জয়েন্টে হাড়ের সুরক্ষাকারী তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ ক্ষয় হওয়ার ফলে এই রোগ দেখা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা ও চলাফেরায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
ডা. চেং-এর মতে, অস্টিওআর্থ্রাইটিস কেবল ব্যথার কারণই নয়, এটি মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেলেও কর্মক্ষম বয়সের মানুষের মধ্যেও এর প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দুর্বল পায়ের পেশী, অতিরিক্ত ওজন, বংশগত কারণ এবং আগে কোনো ধরনের আঘাত পাওয়ার ইতিহাস এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায় হিসেবে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন। প্রক্রিয়াজাত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে উদ্ভিদজাত খাবার গ্রহণ করলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং জয়েন্টের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ঊরুর পেশী শক্তিশালী করা, হাঁটুতে সাপোর্ট বা ব্রেস ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বা ইনজেকশন নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
ওজন কমানোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডা. চেং বলেন, একজন অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তি যদি মাত্র ১০ পাউন্ড ওজন কমাতে পারেন, তবে হাঁটার সময় প্রতিটি পদক্ষেপে হাঁটুতে প্রায় ৪০ পাউন্ড চাপ কম পড়ে। এটি জয়েন্টের ব্যথা উপশমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। অনেক মানুষ মনে করেন বংশগতভাবে অস্টিওআর্থ্রাইটিস থাকলে তা অনিবার্য, তবে জীবনযাত্রার সঠিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।