ইসলামের বিধান অনুযায়ী ইবাদতের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হলো পবিত্রতা অর্জন করা। তবে মরুপ্রান্তরে সফর, মারাত্মক অসুস্থতা কিংবা পানির তীব্র সংকটে ওজু বা গোসলের বিকল্প হিসেবে ইসলামে তায়াম্মুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই বিধান ইবাদতের ক্ষেত্রে ওজু ও গোসলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য।
তায়াম্মুমের বৈধতা
কোরআনে বলা হয়েছে, যদি কেউ অসুস্থ থাকে, সফরে থাকে অথবা পানি না পায়, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করে পবিত্রতা অর্জন করা যাবে। মহানবী (সা.) সমগ্র পৃথিবীকে সেজদা ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আলেম ও ফকিহদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্পূর্ণ বৈধ।
কখন তায়াম্মুম করা যাবে
নির্দিষ্ট কিছু গ্রহণযোগ্য ওজরে তায়াম্মুম করা যায়। পানির অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা পানি ব্যবহারে জীবন সংশয়, তীব্র কনকনে ঠান্ডায় শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা বা তৃষ্ণা নিবারণের প্রয়োজনে পানি বাঁচিয়ে রাখতে তায়াম্মুম করা অনুমোদিত। বিভিন্ন হাদিস ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নবীজি (সা.) সাহাবিদের এই সহজ বিধান অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছেন।
পদ্ধতি
তায়াম্মুমের পদ্ধতি বেশ সহজ। প্রথমে নিয়ত ও বিসমিল্লাহ পড়ে দুই হাতের তালু পবিত্র মাটি বা ধুলোযুক্ত বস্তুতে একবার হালকাভাবে আঘাত করতে হবে। এরপর অতিরিক্ত ধুলা ঝেড়ে নিয়ে মুখমণ্ডল মাসেহ করতে হবে। সবশেষে বাম হাতের তালু দিয়ে ডান হাত এবং ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের কবজি পর্যন্ত অংশ একবার মাসেহ করলেই তায়াম্মুম সম্পন্ন হবে। ইবাদতের ক্ষেত্রে বান্দা যেন কোনোভাবেই আল্লাহর সান্নিধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, তার জন্যই এই সহজ বিধান রাখা হয়েছে।