যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ওয়ালমার্টের বিক্রির গতি গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা দেশটির সাধারণ ক্রেতাদের আর্থিক চাপের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। ওয়ালমার্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জন ডেভিড রেইনি জানিয়েছেন, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দামের কারণে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বড় আকারের কারণে এই বিক্রির তথ্য মার্কিন ভোক্তাদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পনা
মে থেকে জুলাই পর্যন্ত জ্বালানি ছাড়া ওয়ালমার্টের তুলনামূলক বিক্রি বেড়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশ। ক্রেতাদের ধরে রাখতে ওয়ালমার্ট প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক রিফাত সুবিধা ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত গত বছর আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় সরকার এই অর্থ ফেরত দিচ্ছে। এই তহবিল ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের দাম কমিয়ে রাখার বা ‘রোলব্যাক’ কর্মসূচি জোরদার করতে চায়।
ক্রেতাদের আচরণ ও প্রভাব
জন ডেভিড রেইনি জানান, গ্যালন প্রতি জ্বালানির দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর থেকে ক্রেতাদের আচরণে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো এখন বিলাসপণ্য কেনা কমিয়ে শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে খাবার ও খেলনার মতো পণ্যের ক্ষেত্রে দাম কমানোর উদ্যোগটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং বিক্রির লেনদেন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ওয়ালমার্টের লাভের একটি বড় অংশ এবার শুল্ক রিফাত থেকে এসেছে, যা নিয়মিত আয়ের উৎস নয়। এছাড়া অটোমেশন, নতুন ওয়্যারহাউস এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দাম কমিয়ে রাখার এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ওয়ালমার্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা থাকে, তবে নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর মূল্যছাড় স্থায়ী করা হতে পারে। এছাড়া সদস্যপদ ফি এবং বিজ্ঞাপন থেকে আয় বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।