ঢাকাSaturday , 22 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মহাকাশে কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ খুঁজে পেলেন গবেষকরা


August 22, 2026 3:15 am
Link Copied!

ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মহাকাশে নভোচারীদের কোষ্ঠকাঠিন্যের মূল কারণ খুঁজে বের করেছে। জার্নাল নেচার-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, নভোচারীরা দীর্ঘদিন ওজনহীন বা মাইক্রোগ্র্যাভিটি অবস্থায় থাকায় তাদের পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যের চলাচল অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়ে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণ।

গবেষকরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) কয়েক মাস অতিবাহিত করা ৫২ জন নভোচারীর নমুনা সংগ্রহ করে এই বিশ্লেষণ করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে তাদের অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।

গবেষণার মূল তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অভাবে পরিপাকতন্ত্রে খাদ্য ধীরগতিতে চলায় অন্ত্রের জীবাণুগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে আগেই সব কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার নিঃশেষ করে ফেলে। এর ফলে জীবাণুগুলো শক্তির জন্য প্রোটিন গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় বাধ্য হয়। এই প্রক্রিয়াটি রক্তে নির্দিষ্ট কিছু যৌগের নিঃসরণ ঘটায়, যা পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক গতি কমিয়ে দেয়।

কোফেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও ক্রীড়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং গবেষণার অন্যতম লেখক জর্জিয়া লা বারবারা জানিয়েছেন, নভোচারীরা মহাকাশে পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের রক্তে এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, যা নির্দেশ করে যে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া প্রোটিন ফার্মেন্টেশন শুরু করেছে। পৃথিবীতে ফেরার আগ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।

এই সমস্যার সমাধানে গবেষকরা নভোচারীদের খাদ্যতালিকায় স্লো-ফার্মেন্টেড কার্বোহাইড্রেট বা আঁশযুক্ত খাবার বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন। ডাল, সবজি ও বাদামের মতো উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ব্যাকটেরিয়াকে প্রোটিনের বদলে ফাইবারের ওপর নির্ভরশীল করতে সাহায্য করবে। এছাড়া প্রি-বায়োটিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, মহাকাশ গবেষণার এই ফলাফল কেবল নভোচারীদের জন্যই নয়, বরং পৃথিবীতে শয্যাশায়ী দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে। মঙ্গল গ্রহে দীর্ঘমেয়াদী মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানকে নাসা গুরুত্বের সাথে দেখছে। নাসার নিউট্রিশনাল বায়োকেমিস্ট্রি ম্যানেজার স্কট এম. স্মিথ জানিয়েছেন, গবেষণার ফলাফলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নভোচারীদের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে এই তথ্যগুলো নিয়মিত যাচাই করা হবে।