ঢাকাTuesday , 28 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের মুখে বিশ্বের ডজনখানেক বাণিজ্যিক অংশীদার

International Desk
July 24, 2026 3:17 pm
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত জোরপূর্বক শ্রম বা বাধ্যতামূলক শ্রম ব্যবহারের উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ক ব্যবস্থাকে অকার্যকর ঘোষণা করার পর এটি একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই শুল্কের আওতায় পড়েছে বিশ্বের ডজনখানেক বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ।
  • জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ ও উদ্বেগ থেকে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
  • ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আগের শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর এটি একটি বিকল্প ও স্থায়ী সমাধান হিসেবে আনা হয়েছে।
  • এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের বিষয়টি। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যখন আগের শুল্ক ব্যবস্থা বা ট্যারিফগুলো বাতিল করে দেয়, তখন থেকেই বাইডেন প্রশাসন একটি নতুন আইনি কাঠামোর সন্ধানে ছিল। সেই সাময়িক শুল্ক ব্যবস্থার জায়গাটিই এখন এই নতুন নিয়ম দখল করছে।

মূলত যে দেশগুলোতে পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বা জোরপূর্বক শ্রম নেওয়া হচ্ছে, তাদের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই শুল্ক বাধা হিসেবে কাজ করবে। প্রশাসন জানিয়েছে, নৈতিক ব্যবসা নিশ্চিত করা এবং দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সুরক্ষা দেওয়া তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। অনেক দেশের রফতানি খাতের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি ভূ-রাজনীতি এবং মানবাধিকার ইস্যুকে বাণিজ্যের সাথে জুড়ে দেওয়ার একটি বড় কৌশল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আগের শুল্ক ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার পর সরকার এখন এমন এক আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের দোহাই দিয়ে যেকোনো দেশকে চাপের মুখে ফেলতে পারে।

এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে দুটি বড় প্রভাব পড়বে। প্রথমত, যেসব দেশ সরাসরি এই শুল্কের আওতাভুক্ত হয়েছে, তাদের রফতানি সক্ষমতা কমে যাবে এবং বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, এটি বিশ্ব বাণিজ্যে একধরনের ‘সুরক্ষাবাদ’ বা প্রোটেকশনিজম হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিও-এর নিয়মের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন বা বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থার বিন্যাস পরিবর্তন করে দিতে পারে।

সূত্র: bbc.co.uk