পাকিস্তানের ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল বিপ্লব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তানের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট খুচরা লেনদেনের ৯২ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- ২০২৬ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে মোট ৩.৪ বিলিয়ন খুচরা লেনদেনের মধ্যে ৯২ শতাংশই হয়েছে ডিজিটাল চ্যানেলে।
- ডিজিটাল লেনদেনের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪ ট্রিলিয়ন রুপিতে।
- মোবাইল অ্যাপ-ভিত্তিক পেমেন্ট ডিজিটাল লেনদেনের বাজারের ৮৩ শতাংশ দখল করে আছে।
- রাসত (Raast) ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রায় ৬৪৫.৭ মিলিয়ন লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
- পূর্ববর্তী প্রান্তিকের তুলনায় মোট লেনদেনের সংখ্যা ৮ শতাংশ এবং মোট মূল্য ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তানের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে পাকিস্তানে ডিজিটাল লেনদেনের হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৮৮ শতাংশ, যা বর্তমানে ৯২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে মোট খুচরা লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল ১৬৭ ট্রিলিয়ন রুপি।
ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে মোবাইল অ্যাপগুলো সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ব্যাংক, ব্রাঞ্চলেস ব্যাংকিং অপারেটর এবং ইলেকট্রনিক মানি ইনস্টিটিউশন (EMI) দ্বারা পরিচালিত অ্যাপগুলোর মাধ্যমে ২.৬ বিলিয়ন লেনদেন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৪০ ট্রিলিয়ন রুপি। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও ১১ শতাংশ ভলিউম এবং ২২ শতাংশ আর্থিক মূল্যের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
জাতীয় পেমেন্ট সিস্টেম ‘রাসত’ এই প্রবৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এর মাধ্যমে পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) এবং পিয়ার-টু-মার্চেন্ট (P2M) লেনদেনে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। পাশাপাশি, কার্ড-ভিত্তিক কেনাকাটা, ই-কমার্স এবং এটিএম ব্যবহারের প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার ৯৭৬টি এটিএম বুথ এবং ৭ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি ব্যাংকিং এজেন্ট বর্তমানে ডিজিটাল ও নগদ উভয় ধরনের সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষণ
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক রূপান্তরে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের এই বিস্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমকে জনপ্রিয় করার পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসহায়তা এবং রাসত সিস্টেমের সহজলভ্যতা প্রধান ভূমিকা রেখেছে। এই পরিবর্তনের ফলে অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ত্বরান্বিত হচ্ছে।
তবে ডিজিটাল লেনদেনের এই বিপুল প্রসারের সাথে সাথে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সব সরকারি পেমেন্ট ডিজিটালাইজড করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে পাকিস্তানের ব্যাংকিং খাত এক নতুন ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সহায়তা করবে।
সূত্র: dawn.com