যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের তৈরি অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যান্ড্রয়েড অটোমোটিভ ওএস নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তার মূল পার্থক্য মূলত ফোনের ওপর নির্ভরতার ক্ষেত্রে। অ্যান্ড্রয়েড অটো চালনার জন্য স্মার্টফোনের প্রয়োজন হয়, কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড অটোমোটিভ ওএস সরাসরি গাড়ির সিস্টেমে চলে।
অ্যান্ড্রয়েড অটো স্মার্টফোনের সহযোগী
অধিকাংশ চালকের পরিচিত অ্যান্ড্রয়েড অটো মূলত একটি ইন্টারফেস মাত্র। এটি আপনার স্মার্টফোনের প্রসেসর ব্যবহার করে গাড়ির ডিসপ্লেতে নেভিগেশন, মিউজিক এবং মেসেজিংয়ের মতো অ্যাপগুলো সহজভাবে উপস্থাপন করে। ইউএসবি কেবল বা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে গাড়ি ও ফোনের সংযোগ ঘটিয়ে এটি ব্যবহার করা যায়। এর বড় সুবিধা হলো, আপনি যেকোনো সামঞ্জস্যপূর্ণ গাড়িতে উঠে নিজের ফোন যুক্ত করলেই সব অ্যাপ এবং ব্যক্তিগত সেটিংস পেয়ে যাবেন। এটি অ্যাপল কারপ্লের সমতুল্য একটি প্রযুক্তি।
গাড়ির নিজস্ব সফটওয়্যার অ্যান্ড্রয়েড অটোমোটিভ
অ্যান্ড্রয়েড অটোমোটিভ ওএস (AAOS) সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম যা সরাসরি গাড়ির হার্ডওয়্যারে ইনস্টল করা থাকে। এর জন্য কোনো স্মার্টফোনের প্রয়োজন হয় না। এটি গাড়ির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ এবং ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি তথ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরাসরি পরিচালনা করতে পারে।
গুগল বিল্ট-ইন ও অন্যান্য
অ্যান্ড্রয়েড অটোমোটিভ ওএস একটি ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম। অনেক নির্মাতা কোম্পানি যেমন রিভিয়ান, এই প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করে, যেখানে তারা আলাদাভাবে অ্যান্ড্রয়েড অটো বা অ্যাপল কারপ্লে সমর্থন নাও রাখতে পারে। আবার পোলস্টার-২ এর মতো গাড়িতে অ্যান্ড্রয়েড অটোমোটিভ ওএস থাকার পাশাপাশি গুগল বিল্ট-ইন পরিষেবা ও স্মার্টফোন সংযোগের সুবিধাও পাওয়া যায়। গুগল বিল্ট-ইন মূলত গুগলের মানচিত্র, প্লে স্টোর এবং ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের একটি লাইসেন্সকৃত প্যাকেজ, যা অ্যান্ড্রয়েড অটোমোটিভ ওএসের সাথে আলাদাভাবে যুক্ত করা হয়।